হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে একটি বিশেষ ‘অনুমোদিত নৌপথ’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু বাণিজ্যিক জাহাজকে এ পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, তবে তার জন্য আগেভাগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে হবে।
হরমুজের কাছাকাছি অবস্থানরত আল জাজিরার সাংবাদিক ইনজামাম রশিদ জানিয়েছেন, ইরানি হামলার আশঙ্কায় হরমুজ প্রণালির প্রবেশপথে বর্তমানে কয়েক শত জাহাজ নোঙর করে আছে। আক্রমণের ভয়ে জাহাজগুলো সামনে এগোতে সাহস পাচ্ছে না। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত রাতে হরমুজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের উপকূলের কাছে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে, তবুও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
ইরান জানিয়েছে, তাদের উপকূল ঘেঁষে তৈরি এই নতুন করিডর দিয়ে কেবল তাদের বাছাই করা জাহাজগুলোই যাতায়াত করতে পারবে। ইনজামাম রশিদ বলেন, ‘ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, আইআরজিসির পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ এ পথে প্রবেশ করতে পারবে না।’ সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৯টি জাহাজ এই রুট ব্যবহার করেছে, যেগুলোকে আইআরজিসির সদস্যরা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করার পর ছেড়ে দিয়েছে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের পতাকাবাহী দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী (এলপিজি) ট্যাংকার। শিপিং ডেটা বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সূত্র জানিয়েছে, ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’ নামক এই দুটি ভারতীয় ট্যাংকার বর্তমানে পারস্য উপসাগরের সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ উপকূলে নোঙর করে আছে। জাহাজ দুটি তাদের অবস্থান থেকে যাত্রার প্রস্তুতি-সংক্রান্ত সংকেত পাঠিয়েছে।